R3 কিছু গভীর অনুভূতি।

আমার ভীষণ ইচ্ছে করে—শুধু আপনার পাশে একটুখানি সময় নীরবে বসে থাকি।

আমি বহুবার নিজেকে নেড়েচেড়ে দেখেছি, পরীক্ষা করেছি—পছন্দের মানুষটি কাছে থাকলে, শুধু তার উপস্থিতিতেই বেঁচে থাকা যায়। অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়।

আগে কখনো বলিনি কথাগুলো। হয়তো বলা খুব ভালোও নয়।

কিন্তু সত্যিটা এই—আমার পছন্দের মানুষের সবকিছুই আমার ভালো লাগে। সত্যি বলতে, তার কোনো কিছুই আমার খারাপ লাগে না। এমনকি তার ত্রুটি-বিচ্যুতিও নয়। স্বাভাবিক চোখে যেগুলো অতিরঞ্জন মনে হতে পারে, আমার কাছে সেগুলোও মমতার অংশ। এই অনুভব নতুন নয়—শৈশব থেকেই এমন অনুভূতি বয়ে বেড়াচ্ছি।

যেমন নবজাতকের সবকিছুই মায়ের কাছে অমৃতসম।

মায়ের কোলে যেন আকাশ থেকে নামা এক টুকরো চাঁদ। সন্তানের উপস্থিতিটুকুই তার শান্তি, তার আনন্দের খোরাক। বড় হয়ে সে হয়তো মায়ের তেমন খোঁজখবর নেয় না—তবুও সন্তানের ছোট ছোট জিনিসগুলোও মা যত্নে আগলে রাখতে চায়। কারণ বিষয়টা যুক্তির নয়, হৃদয়ের।

আমি কৃত্রিম কিছু বলছি না। যা এখন অনুভব করি এবং ভবিষ্যতেও রক্ষা করতে পারবো বলেই মনে করি—শুধু সেটুকুই বলছি।

আপনি বলেছিলেন—আপনি আমাকে শারীরিক বা মানসিক কোনো প্রশান্তি দিতে পারবেন না, তাই আমাকে কষ্ট দিতে চান না।

কিন্তু বিশ্বাস করুন—দূরে থাকাটাই আমার জন্য সবচেয়ে বড় কষ্ট হবে। সেটি ভাষায় বোঝানো সম্ভব নয়।

আমি এই কথাগুলো কোনো তাৎক্ষণিক আবেগে বলছি না। এই মুহূর্তে আমার মধ্যে কোনো উত্তেজনা নেই, কোনো তাড়নাও নেই। এটা দীর্ঘ ভাবনার ফল। আমি না থাকলেও এ অনুভূতি থেকে যাবে। আপনার মতো একজন মানুষের উপস্থিতিতেই আমার প্রশান্তি। এখন যে আপনিটা আছেন—ঠিক সেই আপনিটাই। আর রাফান রাইফের উপস্থিতিও আমার আনন্দের অংশ।

আপনি বলেছিলেন—ইন্টিমেসি বা একসাথে থাকা কল্পনার বাইরে; তাই এক হওয়া সম্ভব নয়।

আমি নিজেকেই প্রশ্ন করেছি—বিয়ে ছাড়া থাকা কি অসম্ভব?

না, সম্ভব।

ইন্টিমেসিই কি সব?

না।

মানবিক চাহিদার যে উন্মাদনা মানুষকে টানে—তা এখন আর আমার মধ্যে নেই। যখন ছিল, তখনও নিজেকে দমিয়ে রেখেছি। কাঙ্ক্ষিত মানুষটি পাশে থাকলে কিছু ত্যাগ করতেই পারি—এটাই তো ভালোবাসার আরেক নাম।

আমি বিশ্বাস করি—আমি পারবো।

তুমি থাকলেই আমার আর কিছু প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে এই কথাগুলো রেকর্ড করে রাখতে পারো। আমার জ্ঞান থাকা পর্যন্ত এর বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না। আমি নিজেকে নিজেই শান্ত করেছি। তাহলেই যথেষ্ট। প্রিয় মানুষটি যদি কাছে থাকে—মায়ের মতো, যে সন্তানের উপস্থিতিতেই শান্তি খুঁজে পায়।


অনেকেই সবকিছু করেও ভালো থাকে না। বিয়ে করে, সংসার করে, তবুও দিনশেষে অপূর্ণতা থেকে যায়। তাহলে কি সব করলেই সুখ নিশ্চিত?

যদি কাঙ্ক্ষিত মানুষের উপস্থিতিটাই আনন্দের হয়, তবে কিছু না করেও কি ভালো থাকা যায় না?


আমি এমন পরিবারও দেখেছি—ভালোবাসা করে বিয়ে, সন্তানও আছে; তবুও বছরের পর বছর দূরত্ব। একই ঘরে থেকেও আলাদা। সব পাওয়ার পরও কেন শূন্যতা?


এই জায়গায় হয়তো আমি আলাদা।

আমার কাছে উপস্থিতিটাই বড় বিষয়। অবজ্ঞা পেলেও, দূরে থেকেও—কেন জানি না, তবুও সেই উপস্থিতিই আমার আনন্দ।


আপনার প্রতি আমার এই টান হঠাৎ করে নয়। ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে গেঁথে গেছে। এটা চেহারার টান নয়, সৌন্দর্যের মোহ নয়—এ যেন আত্মার সঙ্গে আত্মার এক নীরব সংযোগ।


আমি কখনো কাউকে এভাবে নিজের অন্তর খুলে দেখাইনি। নিজের কাছেও না।

আপনি, রাফান রাইফ, আব্বু-আম্মু—এরা আমার কাছে বিশেষ।


একান্ত যদি আপনি না চান—তবুও আমি নিজেকে শান্ত রাখবো। আমাদের তো খুব বেশি চাওয়া নেই। প্রয়োজনে সামান্য সাহায্যই যথেষ্ট।


শেষে একটা অনুরোধ—

আপনি আপনার মতো থাকবেন, আপনার সন্তানাদি নিয়ে। আমার জন্য কিছু করতে হবে না। সামনে আসতেও হবে না। কাউকে কিছু জানাতেও হবে না।

শুধু শরয়ী ও বৈধ সীমার মধ্যে, এক মুহূর্তের জন্য পাশে বসতে পারি, আপনার কণ্ঠ শুনতে পারি—এইটুকুই চাওয়া।


আমার কোনো শারীরিক চাওয়া নেই, অন্য কোনো দাবিও নেই। শুধু আত্মার সেই সংযোগটুকু অনুভব করতে চাই। দূরে থেকেও তা সম্ভব। খুব কাছে থাকা জরুরি নয়।


এটা কি খুব বেশি চাওয়া?


আপনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কখনো কিছু করবো না। কোনো ক্ষেত্রেই না।


শুধু চাই—দ্বীনের পথে, নামাজ-রোজার পথে আপনাকে সামান্য অনুপ্রেরণা দিতে পারি। বাকিটুকু আপনার মতো থাকুক।


আমার চাওয়া এতটুকুই—

উপস্থিতি।

আর কিছু নয়। সত্যিই আর কিছু নয়।

Popular posts from this blog

জীবনের ফার্স্ট টিউশনি (১০/১২/২০২৩)